নায়করাজ রাজ্জাক ইন্তেকাল করেছেন

কিংবদন্তী অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজেউন)। গুলশানের নিজ বাসায় অসুস্থতাবোধ করলে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি হাসপাতালের চিফ কার্ডিওলজিস্ট ডা. মমিনুজ্জামানের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে হাসপাতালে আনার পর তাঁর স্পন্দন, রক্তচাপ কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নায়ক রাজ রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি বাংলার প্রতিটি মানুষের মনের ঘরে প্রিয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন তার নিজ অভিনয় গুণে।

নায়ক রাজের প্রকৃত নাম আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজ্জাক পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সরস্বতী পূজা চলার সময় মঞ্চনাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নায়ক হিসেবে বেছে নেন।

শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।
নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন।

এরপর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের ‘তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে ‘কার বউ’, ‘ডাক বাবু’, ‘আখেরী স্টেশন’-সহ আরও বেশ কয়েকটি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন।

পরে ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে সদর্পে উপস্থিত হন। নীল আকাশের নীচে, নাচের পুতুল, রাজলক্ষী শ্রীকান্ত, বাবা কেন চাকর, ওরা ১১ জন ইত্যাদি সিনেমা দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন নায়করাজ রাজ্জাক।

প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।

স্ত্রী লক্ষ্মী আর সন্তান বাপ্পারাজ (রেজাউল করিম), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসাইন বাপ্পি, আফরিন আলম ময়না এবং ছেলে সম্রাটকে নিয়ে ছিলো তার সংসার।

পাঁচবার অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার সহ আরো বেশ কিছু আয়োজনে অর্জন করেন আজীবন সম্মাননা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: